বিস্ফোরণে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে দশ লাখ টাকা দেয়ার দাবি ডা. জাফরুল্লাহর

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিস্ফোরণে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দশ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের তল্লার বায়তুস সালাত মসজিদের বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যদি অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে ২৪ জনের মধ্যে অন্তত বারোজন লোক কম মারা যেতো। এ চিকিৎসা তেমন কোনো কঠিন কাজ না। ডাক্তারদের একটি অতিরিক্ত ট্রেনিং দিলেই তারা এ চিকিৎসা দিতে পারে। সরকার দিলে ভালো নইলে আমাকে বললে আমি তিনদিনের ট্রেনিং দিবো তাহলেই ডাক্তাররা নারায়ণগঞ্জে বা ঢাকার বাইরেও অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা দিতে পারবে। দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে বার্ন ইউনিট স্থাপনের দাবি জানান ডা. জাফর উল্লাহ। তিনি নারায়ণগঞ্জের বিস্ফোরণে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দশ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালগুলিতে অগ্নিদগ্ধ রোগী গেলেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ডাক্তার করবেটা কী? তার তো ট্রেনিং নাই। নারায়ণগঞ্জের হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ রোগীরা গেলে ডাক্তার আতঙ্কে পড়ে যায়। পালানোর জন্য সে বলে রোগীকে ঢাকা নিয়ে যান। সেখানে ভালো চিকিৎসা হবে। ভালো না আর কিছু, মানুষের পকেট খালি করা আর কী। তারপরে বলে ইন্ডিয়াতে যাও। একটা দুঃখের বিষয় হচ্ছে এখানে তাদের যে চিকিৎসাটা দেওয়া উচিত ছিল সেটা হয় নাই। এত বড় একটা জেলা শহর, এত বড় একটা হসপিটাল। এখানে উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে মরফিন ইনজেকশন দেয়া। তাহলে ব্যথাটা থাকতো না। দুর্ভাগ্য যে আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। অথচ ওষুধের দাম খুব বেশি না। একটা ইনজেকশনের দাম ৩৫ টাকা মাত্র। সরকার চাইলে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরও কমতে পারতো।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষের অবহেলা সম্পর্কে তদন্ত হবে, আলোচনা হবে, পরীক্ষা হবে এই সমস্ত আজগুবি কথা না বলে ৭ দিনের মধ্যে একটা বিচার হওয়া উচিত। দেশে সুশাসন না থাকলে এসব পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। সুশাসন হতে হলে সঠিক ভোট হতে হবে। তোমাদের ক্ষমতা তোমাদের হাতে দিতে হবে। যেটা বঙ্গবন্ধু করেছিলেন। ওনারা (আওয়ামীলীগ) যদি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করেন, সম্মান করেন, তাহলে উনি যা করতে চেয়েছেন তা করা উচিৎ।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে পেশাজীবীরা নারায়ণগঞ্জে আসার জন্য পাগল হয়ে গেছেন। এখানে থাকলে প্রমোশন হবে আরও নানা কিছু হবে। পুলিশের লোকজন দুর্নীতিবাজ ধরার চাইতে মাদক ধরতে উৎসাহী বেশি। কারণ মাদক ব্যবসায়ী ধরলে লাভও বেশি।

গত শুক্রবার সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের প্রাণহানি হয়েছে। গুরুতর দগ্ধ আরও ১৩ জন জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *