এইচএসসি’২১ ব্যাচের ৩ দফা দাবি

২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের পর এবার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার দাবি করছেন ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হওয়ায় তাদেরকে দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করা, কলেজগুলোতে বেতন মওকুফ করা ও ২০২১ সালে পরীক্ষার বিষয়ে চলতি বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি করছেন তারা।

দাবির স্বপক্ষে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘HSC’21 ব্যাচের ক্ষতিপূরণ চাই’ নামে একটি পাবলিক গ্রুপ খুলেছে। গ্রুপটিতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার সদস্য হয়েছে।
‘২০ ব্যাচের ব্যাপারে অটোপাসের সিদ্ধান্ত আসলেও ‘২১ ব্যাচের ক্ষেত্রে এখনও কোনো সরকারি বক্তব্য না পাওয়া তারা এ দাবি করছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে চলতি বছরের ৭ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এদিন তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তায় সার্বিক বিবেচনায় ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে।
তবে এইচএসসি ২১ ব্যাচের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নিশ্চিত করে এখনো জানানো হয়নি। এতে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছেন লাখো শিক্ষার্থী। সময়নিউজের পক্ষ থেকে ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তিনটি দাবির কথা জানান। তাদের দাবিগুলো হল;
১. অবিলম্বে আমাদের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে ঘোষণা দিতে হবে। যদি কোনো কলেজ পরীক্ষা নিতে চায় অন্তত এক মাস আগে রুটিন দিয়ে জানিয়ে দেবে, যাতে শিক্ষার্থী পরীক্ষা নিয়ে মানসিক কিংবা শারীরিক চাপে না পড়ে এবং সেই কলেজের প্রত্যেক শিক্ষার্থী যাতে পরীক্ষা দিতে পারে সেই ব্যাবস্থা করবে। যেমন- কারো ফোন না থাকলে তার ব্যবস্থা করা, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে ডাটা কলেজ থেকে দেয়ার ব্যবস্থা করা।
২. প্রতিটা কলেজের বেতন মওকুফ করা। অনেক কলেজের (বেসরকারি) বেতন নেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রায় ৬-৭ মাস সব কলেজ বন্ধ, কিন্তু সম্পূর্ণ বেতন দেওয়া লাগছে। করোনার জন্য কারো আর্থিক অবস্থা ভালো না, যারা গরিব তাদের অবস্থা আরো খারাপ।অনেকে হারিয়েছে চাকরি, কারো পরিবারের শেষ অর্থ উপার্জন করা মানুষটি মারা গেছেন। এমতাবস্থায় কিভাবে বেতন পরিশোধ করবে! এটা পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এভাবে একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থমকে যেতে পারে।
৩. আমাদের নিয়ে দ্রুত (২০২০ এর মধ্যে) একটি সিদ্ধান্ত দিন। এতে আমরা মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে রেহাই পাবো। শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন এবং গ্রুপে আমাদের এই ৩ দফা নিয়ে পোস্ট করতে থাকুন এবং আপনাদের সুবিধা অসুবিধা জানান পোস্টের মাধ্যমে।
সময়নিউজের পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয় তারা কেমন সিদ্ধান্ত চান। এসময় বিভিন্ন শিক্ষার্থী বিভিন্ন দাবি করেন। কেউ অটোপাস চান কেউ বা চান সিলেবাস কমিয়ে দেওয়া হোক।
রাইসা বিনতে মোমেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, অটোপাস কখনোই না, পর্যাপ্ত সময় চাই। তানভীর রেজা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সময় বাড়িয়ে সিলেবাস কিছুটা কমানো হোক। তানজীব আলী নামে একজন লিখেন, দীর্ঘ পড়ালেখার বাইরে থাকায় অনেকেই ১ম ইয়ারে শেষ করা সিলেবাস ভুলতে বসেছে। যেহেতু আমাদের সিলেবাস ১/২ বাকি তাই আমাদেরকে অটোপাস দেওয়ায় সিদ্ধান্তটা অযৌক্তিক হবে পক্ষান্তরে সিলেবাস কমালে তা আমাদের এডমিশন টেস্ট ও ইউনিভার্সিটি লেভেলের পড়ালেখায় বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, অযৌক্তিকভাবে সবাই কমেন্ট করছে অটোপ্রমোশনের। যেটা পরপর এইচএসসি ২০ এবং এইচএসসি ২১ কে একসাথে দেয়া হয়তো সম্ভব না। তার চেয়ে আরেকটা বিষয় হচ্ছে গ্রুপে আরো অনেক সমস্যার কারণে অনেকে পোস্ট করছেন। অনেকেই প্রাইভেট কলেজে পড়াশোনা করে দেখা যায় তাদের কলেজ বেতন ফি সহ মাসে ২০-৩০ হাজারের বেশি টাকা করে কলেজে দিতে হচ্ছে প্রতিমাসে।
এই করোনা মহামারির মধ্যে সবাই আর্থিকভাবে সংকটে আছেন, এত টাকা কলেজ ফি দেয়া অসম্ভব হচ্ছে প্রায় অনেকে পরিবারের কাছে। যেখানে দু বেলা খাবার ঠিকভাবে পায় না কোনো কোনো পরিবার। তবুও সন্তানের এবং তাদের স্বপ্নপূরণের জন্য সব সহ্য করে নিচ্ছেন তারা। এ বিষয়টি জোরালভাবে দেখবেন।
কিছু কিছু এলাকা আছে যেখানে ইন্টারনেট কানেকশন ঠিকভাবে নেই। কারোর বা স্মার্টফোন নেই। গ্রামে যারা থাকেন সবার বাবা মায়ের হয়তো স্মার্টফোন কিনে দেয়ার স্বার্থ থাকে না, স্মার্টফোন থাকলেও অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারেন না ইন্টারনেট কানেকশনের জন্য। যেখানে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্লাস নিয়েই অনেকে পড়া বোঝে না, তারা কি আদৌ অনলাইন ক্লাস করে বুঝতে পারবে বিষয়গুলো?
অটোপাসের ক্ষেত্রে বলি, হয়তোবা অটোপ্রমোশনের জন্য অনেকে আগাবে, তবে পরবর্তী সময়ে তাদের এই শূন্যস্থান কি থেকে যাবে না? ভালো ভার্সিটিতে গেলে, ভালো চাকরিতে গেলে অন্যদের মতো মূল্যায়ন করা হবে না। আবার যারা (JSC-SSC) তে খারাপ বা ভালো করেছে সবার তো আলাদা আলাদা চিন্তাধারা আছে। কেউ বা আগে খারাপ ফলাফল করেছে কিন্তু এবার ভালো করার চেষ্টায় আছেন। কেউ কেউ আগে ভালো করেছেন তাদের কোনো প্রস্তুতিই নেই। তাহলে কিভাবে হবে?
৭-৮ মাস গেল, কিন্তু আমরা যদি চাইতাম তাহলে আমাদের দিক থেকেও পড়াশোনা অনেকটা আগানো যেত এই লকডাউনেও। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, মাননীয় সরকার প্রধান উনারা আমাদের চেয়ে যথেষ্ট ভালো বোঝেন, আশা করি আমাদের শিক্ষার্থীদের হতাশ করবেন না। সবগুলো দিক বিবেচনা করে সবার আয়ত্তের মধ্যে ভালো কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *