জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাব সৌদি রাজপুত্রের

জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সৌদি রাজপরিবারের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য। আর এ স্বত্ত্বেও ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে রাজি বলেও জানান তিনি। রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সৌদি আরবের একটি সংবাদ পত্রে লেখা এক নিবন্ধে এ কথা বলেন।

আল ফয়সাল বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের কোনো উদ্যোগ নিতে চাইলে প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ প্রণীত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রথম উপসাগরীয় এবং তৃতীয় আরব দেশ হিসেবে গত ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই চুক্তিতে সৌদি আরবও যোগ দেবে বলে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওই চুক্তির পরও আমিরাতকে নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বাস না করার কথা জানায় ইসরাইল। মার্কিন যুদ্ধ বিমান এফ-৩৫ কেনার জন্য আরব-আমিরাত উদ্যোগ নিলে ইসরাইল সেখানে ভেটো দেয়।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমিরাত এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান কিনলে ইসরাইল নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তবে আমিরাত-ইসরাইল চুক্তি নিয়ে বেশ কয়েকদিন নীরব ছিল সৌদি আরব।  বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসরায়েলের কোনও চুক্তিতে যাবে না সৌদি আরব। আর শুক্রবার (২১ আগস্ট) আল ফয়সালের নিবন্ধ আরও স্পষ্ট হলো সৌদির অবস্থান।
রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল আল সৌদ এক সময়ে সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই নিবন্ধে তিনি লেখেন, যেসব আরব রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অনুসরণের কথা বিবেচনা করছে তাদের ইসরাইলের কাছ থেকে পাল্টা মূল্য দাবি করা উচিত; আর তা হওয়া উচিত চড়ামূল্য।
তুর্কি আল ফয়সাল লেখেন, ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি মূল্য নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। আর তা হলো প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর উদ্যোগ অনুসরণ করে জেরুজালেমকে রাজধানী করে সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
২০০২ সালে আরব লীগের মাধ্যমে ওই পরিকল্পনা ঘোষণা দেয় সৌদি সরকার। এতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর দখল করা পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের সব এলাকা থেকে ইসরাইলি দখল অপসারণ এবং সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে ইসরাইল এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে কোনো উদ্যোগই নেয়নি।
তারপরও আল ফয়সাল মনে করেন, আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির মধ্য দিয়ে রিয়াদের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমিরাত অন্তত একটি মূল শর্ত নিশ্চিত করতে পেরেছে- আর তা হলো এর মাধ্যমে দখল সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে ইসরাইল।
আল ফয়সাল তার নিবন্ধে ইসরাইল দখল সম্প্রসারণ বন্ধ করেছে উল্লেখ করার আগে আমিরাত চুক্তির বিষয়ে গণমাধ্যমে একই কথা বলেছিল। দেশটির এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, চুক্তির ফলে ইসরাইল আর ফিলিস্তিনে হামলা বা দখলদারিত্ব চালাবে না। তবে বাস্তবে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। চুক্তির দিন মধ্য রাত থেকে টানা প্রতিদিন গাজা উপত্যাকায় রকেট ও বিমান হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল।
অন্যদিকে ইসরাইলের সঙ্গে আরব-আমিরাতের এ চুক্তিকে ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যয় বলে আখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিন সরকার ও প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক বিবৃতিতে বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে নির্যাতিত ফিলিস্তিনের পিঠে বিষাক্ত ছুরি বসিয়েছে আমিরাত।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল আল সৌদ বর্তমানে সৌদি আরবের কোনও সরকারি দায়িত্বে নেই। তারপরও আরবের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারপারসন হিসেবে সরকারি সিদ্ধান্তে যথেষ্ট প্রভাব রাখেন সাবেক এ গোয়েন্দা প্রধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *