বাংলাদেশও করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে পিছিয়ে নেই

করোনার ছোবল থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া গোটা বিশ্ব। এ ভাইরাস থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় এর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক তৈরি করা। আর এটি তৈরি করতে বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানীরা রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছেন। এ যুদ্ধে অনেকেই আশার আলো দেখিয়েছেন, তবে রাশিয়া সবার চেয়ে এগিয়ে। দেশটি ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের ঘোষণা দিয়েছে এবং দেশটির সরকার এই ভ্যাকসিনের অনুমোদনও দিয়েছে।

বুধবার ১২ আগস্ট এ ভ্যাকসিন আলোর মুখ দেখবে।
তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। দেশে ৩ থেকে ৪টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদনে প্রস্তুত রয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব শফিউজ্জামান।
শফিউজ্জামান বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে ৩-৪টি কম্পানি করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনে প্রস্তুত। এর মধ্যে ২টা কম্পানি নিজেদের ল্যাবে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
সোমবার ১০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে ভ্যাকসিন বিষয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিশ্বের ২০০টিরও বেশি কম্পানি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কাজ করছে। এর মধ্যে ১৪১টি কম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করছে, ২৫টি কম্পানি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষারত পর্যায়ে রয়েছে। এসব কম্পানির ভ্যাকসিনের গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণ করে বাজারজাতের প্রথম পর্যায়ে এবং সবার আগে যেন বাংলাদেশ পায় সেটি নিশ্চিত করাই হচ্ছে সরকারের মূল লক্ষ্য।’
ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা একাধিক বিশেষজ্ঞ গণমাধ্যমকে বলেন, ভ্যাকসিন ইস্যুতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। দেশের বড় কয়েকটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস ছাড়াও আরো একটি কম্পানি ভেতরে ভেতরে ট্রায়ালের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। এখন তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে ট্রায়ালের বাকি পর্ব এবং ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর কারিগরি প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *